কম্পিউটারের সংজ্ঞা :
কম্পিউটার শব্দটি কম্পিউট শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হলো গণনা। অর্থাৎ কম্পিউটার একটি গণক যন্ত্র বা পরী গণক। কিন্তু এর কার্যকারিতা বা কার্যক্ষমতা, প্রয়োগ সীমা ও যন্ত্রাংশ ইত্যাদি দিক থেকে বিবেচনা করলে কম্পিউটার শুধুমাত্র একটি গণক যন্ত্র নয়।
কম্পিউটার হল দ্রুতগতি সম্পন্ন একটি জটিল বৈদ্যুতিন জয়ন্তদা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সহযোগিতায় সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে, পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত তথ্যকে পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং নির্দেশাবলী মেনে নির্দিষ্ট প্রসেসিং এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গাণিতিক,যৌক্তিক ও অন্যান্য তথ্য নিপুনভাবে পরিচালনা করে ব্যবহারকারীর সামনে ফলাফল তুলে ধরতে পারে।
কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য
কম্পিউটার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর অধিকারী। কম্পিউটারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য গুলি হল-
গতি কম্পিউটার খুব অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত কোন কাজ করতে পারে সাধারণত মিলি সেকেন্ড ন্যানো সেকেন্ড বা পিকো সেকেন্ড এর মাধ্যমে কম্পিউটারের গতি হিসাব করা হয়।
নির্ভুলতা বা সঠিকতা: সাধারণভাবে কম্পিউটার নির্ভুলভাবে যেকোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ব্যবহারকারীর দেওয়া ভুল তথ্য কম্পিউটার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংশোধন করতে পারে।
সঞ্চয় ক্ষমতা: বর্তমানে কম্পিউটার অনেক তথ্য ধারণ করতে সক্ষম তথ্য ধারণ ক্ষমতার একক হল বিট বা বাইট বা কিলোবাইট বা মেগাবাইট বা গিগাবাইট কম্পিউটারে সরক্ষণ বা সঞ্চয় করার তথ্য প্রয়োজন মতো সময়ে আবার দেখা যায়।
পুনরাবৃত্তি দক্ষতা : কম্পিউটার ক্লান্তিহীন এবং নির্ভুল ভাবে একই কাজ বারবার করতে পারে।
স্বয়ংক্রিয়তা: কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক কাজ নির্দেশ অনুসারে করতে সক্ষম।
বহুমুখী কর্মদক্ষতা : সম্পন্ন কম্পিউটারে একধারে বিভিন্ন কাজ করা সম্ভব। ছবি আঁকা, চিঠি লেখা, তথ্য আদান-প্রদান, গান শোনা, গেম, সিনেমা দেখা প্রভৃতি বিভিন্ন বহুমুখী কম্পিউটারের মাধ্যমে করা যায়।
কম্পিউটারের কাজ : কম্পিউটার ব্যবহারকারীর থেকে নির্দেশ বা কমেন্ট ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে । গ্রহীত কমান্ড বা নির্দেশ বা তথ্য বিশ্লেষণ প্রক্রিয়াকরণ করে মনিটরে ফলাফল প্রদর্শন করে। কখনো কখনো ব্যবহারকারীর প্রয়োজনমতো ফলাফল মেমোরিতে সংরক্ষিত হয় । এছাড়াও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনমতো বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে।
কম্পিউটারের ব্যবহার : শিক্ষাক্ষেত্রে ডিটিপি এর মাধ্যমে বই পত্রিকা প্রকাশনা , এডমিট কার্ড মার্কশিট তৈরি, বিভিন্ন যন্ত্র হিসেবে শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের প্রদর্শন সর্বজনস্বীকৃত।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে : ব্রেন স্ক্যান, ইসিজি, এমআরআই প্রভৃতি যন্ত্র চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রয়েছে।
বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশ গবেষণায়: তথ্য বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান প্রভৃতি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশ গবেষণায় কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
খেলাধুলা ও বিনোদন: বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার গেম ও বিনোদন মূলক সফটওয়্যার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অফিস ও প্রশাসনের: সমস্ত অফিশিয়াল ও প্রশাসনিক কাজ কম্পিউটার নিমেষে সম্পন্ন করতে পারে । এছাড়াও প্রতিরক্ষা, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক, আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ।
ব্যক্তিগত কাজে : বর্তমানে ইমেইলে পাঠানো, চিঠি লেখা , ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান প্রভৃতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
ব্যাঙ্কিং পরিষেবা: ব্যাংক পরিষেবায় কম্পিউটারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ , ইন্টারনেট ব্যাংকিং , কোড ব্যাংকিং, এটিএম পরিষেবা ব্যাংকিং ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে ।
ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প : কম্পিউটারের সাহায্যে সিআইডি, সিএম প্রভৃতি বিভিন্ন সফটওয়্যার মাধ্যমে স্থাপত্য শিল্প, বিল্ডিং এর নকশা ব্রিজ নকশা প্রভৃতি কাজ অনেক সহজ ও সুন্দরভাবে করা সম্ভব হয়েছে ।
কম্পিউটার ব্যবহারের অসুবিধা:
কম্পিউটার ব্যবহারের অসুবিধা গুলি হল – বর্তমানে অতিমাত্রায় কম্পিউটার ব্যবহার মানুষকে অলস করে তুলেছে। হাতে কলমে কাজ করার ইচ্ছে ক্রমশ বিলুপ্ত হচ্ছে । নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট জনিত সমস্যা অনেক সময় সমস্ত সিস্টেমের কাজ ব্যাহত করেছে। মানুষের নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা খাটিয়ে কাজ করার প্রবণতা অনেক রাস পাচ্ছে ।
কম্পিউটার দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা: কম্পিউটারের সাধারণ জ্ঞানের অভাব। কম্পিউটার এখনো পরনির্ভরশীল প্রদত্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করে। এখনো কম্পিউটার ভুল সংশোধনে অক্ষম । প্রয়োজনীয় ফলাফলের জন্য সঠিক প্রোগ্রাম লিখতে হয়। প্রারম্ভিক মূল্য বেশি ।
সীমাবদ্ধতা থাকলেও কম্পিউটার অপরিহার্যতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই । কম্পিউটারের পর্দায় সীমা-পরিসীমা এবং এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।