কম্পিউটার :
বর্তমানে অফিস-আদালত রেলওয়ে টিকিট কাউন্টার হাসপাতাল কারখানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রভৃতি বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটারের ব্যবহার দেখা যায়।দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার এর ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম্পিউটার আবিষ্কারের ফলে গোটা পৃথিবীর সমস্ত খবর আমরা এক নিমিষেই জানতে পারছি।
সাধারণভাবে আমরা কম্পিউটার বলতে কতগুলি যন্ত্রাংশের সমষ্টি দেখতে পাই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কম্পিউটার কি?
‘কম্পিউটার’ শব্দটি এসেছে ‘কম্পিউট’ শব্দ থেকে,যার অর্থ ‘গণনা’।
কম্পিউটার হল দ্রুতগতি সম্পন্ন একটি জটিল বৈদ্যুতিন জয়ন্তদা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সহযোগিতায় সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে, পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত তথ্যকে পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং নির্দেশাবলী মেনে নির্দিষ্ট প্রসেসিং এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গাণিতিক,যৌক্তিক ও অন্যান্য তথ্য নিপুনভাবে পরিচালনা করে ব্যবহারকারীর সামনে ফলাফল তুলে ধরতে পারে।
কম্পিউটারের ব্যবহার
আধুনিক বিশ্বে কম্পিউটারের ব্যবহার সর্বত্র লক্ষ করা যায়।বিভিবিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার হল-
- শিক্ষাক্ষেত্রে: শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লক্ষণীয়। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণযন্ত্র সব ধরনের শিক্ষার ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী। ইন্টারনেট ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্ত তথ্য এক নিমিষে জানা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া মার্কশিট তৈরি, অ্যাডমিট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড তৈরি,OMR- এর মাধ্যমে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ, অনলাইন টেস্ট এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা, ভর্তির কাজকর্ম প্রভৃতি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার হয়।
- বিজ্ঞান গবেষণা: বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখাতে( ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি ইত্যাদি) কম্পিউটারের ব্যবহার গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। মহাকাশ, আবহাওয়া প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হচ্ছে।
- চিকিৎসাক্ষেত্রে: সিটি স্ক্যান,এম আর আই-সহ বিভিন্ন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা খুবই সহজ হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপারেশন খুব নিখুঁতভাবেএছাড়া কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপারেশন খুব নিখুঁতভাবে সম্পাদিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটার সিস্টেম চালিত রোবট এর মাধ্যমে নানান ধরনের জটিল অপারেশন খুবই সহজরোবট এর মাধ্যমে নানান ধরনের জটিল অপারেশন খুবই সহজ ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
- পাবলিশিং বা প্রকাশনার কাজ: ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র, বই ইত্যাদি প্রকাশনার ক্ষেত্রে কম্পিউটার সিস্টেম যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। DTP বা ডেস্কটপ পাবলিশিং এর মাধ্যমে লেখার সঙ্গে সঙ্গে ঝকঝকে ছবি প্রকাশনার অনেক উন্নত করেছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং সিস্টেমে মুদ্রণ ক্ষেত্রে গুণমান ও গতি দুই-ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ব্যবসাবাণিজ্য: ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কম্পিউটার সিস্টেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। অনলাইন বিজনেস, শেয়ার মার্কেট, অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম, ব্যাংকিং সিস্টেমের উন্নতি প্রভৃতি ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
- অন্যান্য ক্ষেত্র: 1.মাল্টিমিডিয়া, অ্যানিমেশন, স্পেশাল ইফেক্ট ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সিনেমা ভিডিও গেমস চিত্তবিনোদনের ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে।
2.বিভিন্ন ধরনের অফিশিয়াল এবং প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে ইমেল, ইন্টারনেট, অনলাইন ভিডিও কনফারেন্স, ওয়েবসাইট আজ বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
CAD বা কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন,CAM বা কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং ইত্যাদির মাধ্যমে শিল্প সামগ্রী উৎপাদন, ডিজাইন শিল্পে বা কলকারখানার ক্ষেত্রে অনেক গতি ও গুণমান বৃদ্ধি করেছে।
কম্পিউটারের ব্যবহারের অসুবিধা
1.বর্তমানে অতি মাত্রায় কম্পিউটারের ব্যবহার মানুষকে অল্প করে তুলেছে। হাতে কলমে কাজ করার ইচ্ছা ক্রমশ বিলুপ্ত হচ্ছে। 2.নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট জনিত সমস্যা অনেক সময় সমস্ত সিস্টেমের কাজ ব্যাহত করছে। 3.মানুষের নিজস্ব বুদ্ধি বিবেচনামানুষের নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা খাটিয়ে কাজ করার প্রবণতা অনেক হ্রাস পেয়েছে।
কম্পিউটারের দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা
1.কম্পিউটারের সাধারণ জ্ঞানের অভাব। 2. কম্পিউটার এখনো পরনির্ভরশীল। প্রদত্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করে। 3. কম্পিউটার ভুল সংশোধনে অক্ষম। 4. প্রয়োজনীয় ফলাফলের জন্য সঠিক প্রোগ্রাম লিখতে হয়। 5. প্রারম্ভিক মূল্য বেশি।
কম্পিউটারের ইতিহাস
বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার হলো কম্পিউটার। বর্তমানে দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে তথ্যের আদান-প্রদান গবেষণা, বিনোদন, শিক্ষা, শিল্প, কলকারখানার প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এই অন্যতম আবিষ্কারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে বর্তমানে যে কম্পিউটার গুলি দেখা যায় সেগুলি একদিনে তৈরি হয়নি, অনেক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই রূপ পেয়েছে।
1. অ্যাবাকাস: আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে চীনদেশে অ্যাবাকাস নামক যন্ত্র ( যা কাঠের বা ধাতুর কয়েকটি সারি তার এবং প্রত্যেক সারি তারের মধ্যে থাকে কয়েকটি পুঁতি) তৈরীর মধ্য দিয়ে প্রথম গণনা যন্ত্রের উদ্ভাবন হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে কেবলমাত্র ছোট ছোট যোগ, বিয়োগ করা সম্ভব ছিল। তবে এই যন্ত্রের দ্বারা সরাসরি গুণ ও ভাগ প্রক্রিয়া করা সম্ভব ছিল না।
এরপর অ্যাবাকাস ক্রমশ রাশিয়া, গ্রীস, ইতালি, জাপান প্রভৃতি বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হয়। জাপানে ব্যবহৃত এই এবাকাস যন্ত্রকে সোরাবান বলা হত। প্রত্যেক শিক বা রডের মধ্যে গোলাকার চিনামাটির পুতি লাগানো থাকে এবং পুঁতিগুলির মধ্যে ছিদ্র করা থাকে, সেগুলির ধাতব রডের মধ্যে চলাচল করতে পারে। সবচেয়ে ডানদিকের পুঁতিটির অবস্থান হল একক, তারপরের প্রতিটির অবস্থান হল দর্শক, তারপরে গুলি শতক সহস্র ইত্যাদি।
2. নেপিয়ারস বোন: অ্যাবাকাস আবিষ্কার এর অনেক বছর পরে স্কটিশ বিজ্ঞানী জন নেপিয়ার 1617 খ্রিস্টাব্দে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা পরবর্তী সময়ে নেপিখ্রিস্টাব্দে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা পরবর্তী সময়ে নেপিয়ারস বোন বা নেপিয়ার হাড় নামে পরিচিত হয়। এই যন্ত্রে অনেকগুলি রেখাঙ্কিত দন্ড ছিল।
এই যন্ত্রের সাহায্যে যোগ, বিয়োগ ছাড়াও প্রক্রিয়া করা সম্ভব ছিল। তবে একসঙ্গে বড় বড় যোগ বিয়োগ গুন প্রক্রিয়া করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তীকালে নেপিয়ার ‘নেপিয়ার লগারিদম’ নামে একটি গাণিতিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যার মাধ্যমে গুন ভাগ বর্গমূল বর্গফল নির্ণয় করা যেত। যন্ত্রটিতে এগারটি লম্বা লম্বা দন্ড থাকতো, যেগুলি একটি টেবিলের উপর এমন ভাবে রাখা হতো যেন দন্ড গুলি গায়ে গায়ে লাগিয়ে সম্পূর্ণ অংশ পড়া যায় ও কোনাকুনি কাটা দাগ গুলি পাশের দন্ডের গায়ে মিশে গিয়ে কোনাকুনি লাইন তৈরি করে।
3. স্লাইড রুল: এরপর 1620 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ গণিতজ্ঞ উইলিয়াম অট্টেড এবং অন্যান্য বিজ্ঞানী মিলিতভাবে স্লাইডিং কেউ যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রটি নেপিয়ারস বোন যন্ত্রের উপর ধারণা করে তৈরি করা হয়েছিল।
স্লাইডিং স্কেলটি দুটি অংশে বিভক্ত- একটি সরু এবং অন্যটি মোটা। মোটা স্কেলের মাঝখানে খাজ কাটা অংশে সরু স্কেলটি বসানো থাকতো। সরু স্কেলটি বড় স্কেলের কাজের এপাশে-ওপাশে সরানো যেত। দুটি স্কেলের গায়ে সংখ্যা খোদাই-করা থাকতো যার দ্বারা যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ, বর্গমূল ইত্যাদি নির্ণয় করা যেত। তবে এই যন্ত্রের মাধ্যমে খুব বড় বড় অঙ্ক করা সম্ভব ছিল না। সরু স্কেলটি সরিয়ে বড়ো স্কেলটি সঙ্গে মিশিয়ে স্কেল দুটির গায়ে খোদাই করা সংখ্যা দ্রুত গণনা করার কাজে এই যন্ত্রটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
4. পাস্কালিন যন্ত্র: 1942 খ্রিস্টাব্দে ব্লেস পাস একটি মেকানিক্যাল ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। এই যন্ত্রের সাহায্যে খুব বড় বড় যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ প্রভৃতি করা সম্ভব হত। এটিকে প্রথম ক্যালকুলেটর হিসেবে ধরা হয়। পাস্কালের নামনুসারে এই যন্ত্রটিকে পাস্কালিন যন্ত্র বলা হত। পাস্কালিন যন্ত্রটির ভিতর বিভিন্ন আকারের পিন লাগানো চালতি থাকত যা গিয়ারের মতো কাজ করত। যন্ত্রটির উপরের দিকে অনেকগুলি ডায়াল ও ছোট ছোট কুঠুরি ছিল। কুঠুরির ঠিক পিছনে 0 ও 9 লেখা চাকতি থাকত।অঙ্ক কষার সময় ওই ডায়াল ঘুরিয়ে কুঠুরিতে অঙ্কের সংখ্যা আনা হত।
5. স্টেপড রেকনার: পাস্কালিন ইনোনের প্রভূত উন্নতি সাধন করে 1672 খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী গটফ্রেড উইলিয়াম লেবানিজ একটি ডিজিট্যাল মেকানিক্যাল ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন যা স্টেপডরেকনের বলে পরিচিত ছিল। সর্বপ্রথম এই যন্ত্রটির মাধ্যমে যোগ, গুন, বিয়োগ, ভাগ প্রক্রিয়া করা সম্ভব হয়েছিল। সাধারণ পিন হুইলের পরিবর্তে এই যন্ত্রে স্টেপড হুইল ব্যবহৃত হত।
6. ডিফারেন্স ইঞ্জিন: কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ 1882 খ্রিস্টাব্দে ডিফারেন্স ইঞ্জিন নামক এক ধরনের গণনা যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রটি তথ্য ভরে রাখতে পারতো এবং একাধিক একসঙ্গে করতে সক্ষম ছিল। এই যন্ত্রটি কে একটি মেমোরি বাস স্মৃতি ভান্ডার ছিল। এই কারণেএই কারণেই মেমোরিতে তথ্য বা নির্দেশ রেখে অনেকগুলি কাজ একসঙ্গে করতে পারত। ডিফারেন্স ইঞ্জিন এর মাধ্যমে নানান রকম গাণিতিক ফাংশন অপেক্ষকের মান নির্ণয় ত্রিকোণমিতি ও লোগারিদমিক টেবিল বানানো যেত।
7. অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন: 1834 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ একটি সম্পূর্ণ নতুন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের উদ্ভাবন করেন। এই যন্ত্রটি ডিফারেন্স ইঞ্জিন থেকে অনেক উন্নত প্রযুক্তির। এই যন্ত্রটি যেকোনো গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম ছিল। এই যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যনালিটিক্যাল ইঞ্জিন। বিজ্ঞানী ব্যাবেজের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের পাঁচটি অংশ ছিল-
1. স্টোর: তথ্য সঞ্চয় করে রাখা হত।
2. বিভিন্ন অ্যারিথমেটিককরতে অপারেশন সম্পন্ন করত।
3. কন্ট্রোল ইউনিট: তথ্যের আদান প্রদান নিয়ন্ত্রণ করত।
4. ইনপুট ইউনিট: পাঞ্চকার্ড এর মাধ্যমে নির্দেশ বা তথ্যের প্রবেশ করানো হতো।
5. আউটপুট ইউনিট: ফলাফল পাঞ্চকার্ড এর মাধ্যমে প্রদর্শিত হত।
8. পাঞ্চকার্ড: পাঞ্চ কার্ড হল একাধিক ছিদ্রযুক্ত এক ধরনের যন্ত্র, যা 1725 খ্রিস্টাব্দে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন বেসিল বাউসন এবং জিন ব্যাপ্টিস্ট ফ্যালকন। এটি সাধারণত কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইন করার জন্য ব্যবহৃত হত। এরপর 1890 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী হারম্যান হলেরিথ আমেরিকার জনগণনার কাজে এই যন্ত্র ব্যবহার করেন। পাঞ্চকার্ড ই প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারের ইনপুট ও আউটপুট ইউনিট হিসাবে ব্যবহৃত হত।
9. মার্ক-I: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাওয়ার্ড আইকেন 1944 খ্রিস্টাব্দে IBM সংস্থার সহায়তায় ইলেক্ট্রো ম্যাকানিকাল কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। এর নামকরণ করা হয় Mark-I । এই কম্পিউটারকে ASCC- ও বলা হত। Mark-I যন্ত্রটির আকার অনেক বড় ছিল। যন্ত্রটির দৈর্ঘ্য ছিল 15 মিটার, প্রস্থ 06 মিটার ও উচ্চতা 24 মিটার। এই প্রকার যন্ত্রের পাঞ্চকার্ড ব্যবহার করে তথ্য সঞ্চিত থাকত। অ্যনালিটিক্যাল ইঞ্জিন যন্ত্রের ত্রুটিগুলি মার্ক-I যন্ত্রে সংশোধিত করা হয়েছিল। এই যন্ত্রটিতে তড়িৎ চৌম্বকীয় রিল ব্যবহার করা হত।
10. এনিয়াক: প্রথম সাধারণ উদ্দেশ্যে আবিষ্কৃত কম্পিউটার হল এনিয়াক। এনিয়াক এর সম্পূর্ণ নাম হল ইলেকট্রনিক নিউমেরিক্যাল ইনটিগ্রেটর অ্যান্ড কম্পিউটার। 1946 খ্রিস্টাব্দে পেনসিলভিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং এই দুটি অধ্যাপক জে পি একাট ও জন ম্যাউচলি এই কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। এই ধরনের কম্পিউটার আকারে অনেক বৃহৎ ছিল এবং প্রধান ইলেকট্রনিকস উপাংশ হিসাবে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহৃত হত। এই কম্পিউটারের কোন গাণিতিক কাজ মাইক্র সেকেন্ড সম্পন্ন হত। এই যন্ত্রটির ওজন ছিল প্রায় 26 টন এবং চালাতে 150 কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হত। যন্ত্রটি প্রতি সেকেন্ডে 5000 যোগ সম্পন্ন করতে পারত।
11. এডস্যাক: 1949 খ্রিস্টাব্দে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতজ্ঞ মরিস উইলকিস এবং তার সঙ্গীরা এডস্যাক নামক কম্পিউটার আবিষ্কার করেন।এডস্যাক কথাটি সম্পূর্ণ অর্থ হল ইলেকট্রনিক ডিলে স্টোরেজ অটোমেটিক ক্যালকুলেটর।
12. ইউনিভ্যাক-1: ইউনিভ্যাক-1 ছিল আমেরিকার বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত দ্বিতীয় কম্পিউটার। ইউনিভ্যাক-1 কথাটিরসম্পূর্ণ অর্থ হল ইউনিভার্সাল অটোমেটিক কম্পিউটার-1 । 1951 খ্রিস্টাব্দের জন ম্যাউচলি ও জে প্রেসপার একাট এই কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনগণনার কাজে ব্যবহৃত হত।
13. এডভ্যাক: 1952 খ্রিস্টাব্দে ENIAC কম্পিউটারের আবিষ্কারক জি পি একাট ও জন ভন নিউম্যানের পরামর্শ নিয়ে এডভ্যাক কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। এডভ্যাক কথাটি সম্পূর্ণ অর্থ হল- ইলেকট্রনিক ডিসক্রিট ভেরিয়েবেল অটোমেটিক কম্পিউটার।ENIAC কম্পিউটারের অনেক ত্রুটি সংশোধন করে এই কম্পিউটার তৈরি করা হয়েছে। এই কম্পিউটারের দ্রুত গতি সিরিয়াল অ্যাকসেস মেমোরি ব্যবহৃত হত।
14. জন ভন নিউম্যান আকিটেকচার: বর্তমান বা আধুনিক কম্পিউটারের নকশা বিজ্ঞানী জন ভন নিউম্যান প্রবর্তিত ধারণার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে। জন ভন নিউম্যান এর মতে, কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজের জন্য স্বতন্ত্র যন্ত্রাংশ থাকবে। তিনি স্টোরড প্রোগ্রাম ধারণার প্রবর্তন করেছিলেন।