GNU open-source এর ধারণা
1980 খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের নিকট অন্যতম বড় সমস্যা হল সফটওয়্যার এর কপিরাইট ।সফটওয়্যার ডেভেল পারগন কপিরাইট অধিকারের জন্য অ্যাপ্লিকেশনের সোর্সকোড এ পরিবর্তন করে নিজেদের সুবিধামতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত করতে পারেননি ।এর ফলে উন্নত ধরনের সফটওয়্যার তৈরি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
1984 খ্রিস্টাব্দে ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মি. রিচার্ড স্টল ম্যান GNU নামে একটি প্রজেক্ট চালু করেন ।এই প্রজেক্ট এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা।
অনেকদিনের গবেষণা ও ক্রমবিকাশের পর 1991 খ্রিস্টাব্দে মি. লাইনাস টোরভাল্ডস সফলভাবে GNU টুলস ও 136 টি ইউটিলিটি প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নতুন লিনাক্স কার্নেল ইন্সটল করেন।
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরি সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত উৎস সফটওয়্যার এর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকে ।এই ধরনের সফটওয়্যার এর ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কপিরাইট অধিকার একটি সফটওয়্যার এর কোডের পরিবর্তন ,পরিবর্ধন বা যে-কোনো কাজে বিতরণ করতে পারে। আর্থিকভাবে দুর্বল কিন্তু উদ্ভাবনী মেধা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে মুক্ত উৎস সফটওয়্যার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম
লিনাক্স হলো এমন একটি বন্টনযোগ্য অপারেটিং সিস্টেম ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমের সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং যায় ইন্টেল, মোটোরোলার মাইক্রোপ্রসেসর এর মতো বিভিন্ন হার্ডওয়ার এর ওপর সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম।
ফ্রী সোর্সকোড এর জন্য লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন ডিসট্রিবিউশন লক্ষ্য করা যায় রেড হ্যাট ,সুসে,ম্যানড্রিভা, ফেডোরা, উবুন্তু, কালি লিনাক্স ইত্যাদি সকলের ক্ষেত্রেই কার্নেল একই হলেও অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজগুলি বিভিন্ন।
লিনাক্স এ ফ্রিতে বন্টিত সফটওয়্যার প্যাকেজগুলি হলো অফিস প্যাকেজ(OpenOffice.org, Libreoffice), প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ(c,c++), স্ক্রিপ্টিং ল্যঙ্গুয়েজ(perl,Phython),RDMBS(MySQL,PostgreSQL), বিভিন্ন সার্ভার কম্পনেন্ট(FTP,DNS,DHCP,NFS NiS) ইত্যাদি।
এই কারণে লিনাক্সে পৃথকভাবে সফটওয়্যার প্যাকেজ কেনার দরকার হয় না, যেখানে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম এর ক্ষেত্রে সফটওয়্যার কেনা যথেষ্ট ব্যয় বহুল।
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর বৈশিষ্ট্য
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য গুলি হল-
1.পোর্টেবল- লিনাক্স কার্নেল এবং বিভিন্ন এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম যেকোনো হার্ডওয়ার প্লাটফর্মে ইন্সটল করা সম্ভব।
2.মুক্ত ও ফ্রি উৎস- লিনাক্স সোর্সকোড বিনা খরচে পাওয়া যায় এবং ব্যবহারকারী চাইলে নিজে পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারে ।
3.মাল্টি ইউজার -একাধিক ব্যবহারকারী কম্পিউটার সিস্টেমের বা যন্ত্রাংশ এক সময় ব্যবহার করতে পারে ।
4.মাল্টিপ্রোগ্রামিং -একাধিক অ্যাপ্লিকেশন একসঙ্গে চলতে পারে।
5.হাইরারকিক্যাল ফাইল সিস্টেম- লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে ক্রমোচ্চ শ্রেণীবিভাগ অনুসারে ফাইল অবস্থান করে।
6.শেল -লিনাক্সে বিশেষ ধরনের কমান্ড ইন্টারপ্রেটার ব্যবহার করা হয় যা অপারেটিং সিস্টেমের সমস্ত কমান্ড সম্পাদন করে।
7.নিরাপত্তা- পাসওয়ার্ড প্রটেকশন ডেটা এনক্রিপশন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম শক্তিশালী সুরক্ষা বা নিরাপত্তা প্রদান করে।
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর গঠন
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের গঠন কে চার ভাগে ভাগ করা যায়। 1.হার্ডওয়ার 2.কার্নেল3. শেল এবং4. ইউটিলিটিস ।
1.হার্ডওয়ার : কম্পিউটার সিস্টেমের কে কেন্দ্র করে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরি হয়েছে ।হার্ডওয়ার গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সিপিইউ ,RAM ইত্যাদি ।সিপিইউ সমগ্র কম্পিউটার সিস্টেমের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- কার্নেল : কার্নেল লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর প্রধান অংশ, সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে উপরের অংশের নির্ধারিত বা নির্দেশিত কাজ নিচের অংশের মাধ্যমে সম্পাদন করে। কার্নেলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে ,যা ব্যবহারকারীর কমান্ড এবং তাদের সমাধান জানতে সাহায্য করে ।
3.শেল : শেল এমন এক ধরনের কমান্ড ইন্টারপ্রিটার, যা ইন্টারফেস তৈরি করে কার্নেলের জটিল ফাংশন ব্যবহারকারী থেকে লুকিয়ে রাখে। শেল তাই ব্যবহারকারী এবং কার্নেলের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে । শেল ব্যবহারকারী প্রদত্ত কমান্ড গুলি পড়ে কার্নেলের কাছে ইন্টারপ্রেট করে পাঠিয়ে দেয় তা যথাযথভাবে হার্ডওয়ার এর মাধ্যমে সম্পাদনের জন্য। - ইউটিলিটিস: অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি প্রোগ্রাম বিদ্যমান।
Dash Home ব্যবহার করে উবুন্তু অপারেটিং সিস্টেম এর ফাইল বা অ্যাপ্লিকেশন
1.সর্বপ্রথম উবুন্তু অপারেটিং সিস্টেমের ডেক্সটপের অঞ্চলে অবস্থিত Dash আইকনের উপর ক্লিক করলে স্ক্রিনে একটি উইন্ডো দেখা যাবে।
- এই উইন্ডোতে চারটি অংশ দেখা যায় (a). ওপরের দিকে সার্চবক্স (b) তারপর সম্প্রতি ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এর আইকন সহ নাম (c) এর পর সম্প্রতি ব্যবহৃত বিভিন্ন ফলের নাম এবং (d) সবশেষে উইন্ডো নিচে পাঁচটি আইকন যুক্ত লেন্স।[Home, Applications,File, Music, video]।
- সার্চ বক্স এর নির্দিষ্ট ফাইল বা অ্যাপ্লিকেশনের নাম টাইপ করার পর বক্সের নিজের সম্পর্কিত ফাইল বা অ্যাপ্লিকেশনের তালিকা দেখা যাবে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট ফাইল বা অ্যাপ্লিকেশন এ ক্লিক করলে সেটি চালু হয়ে যাবে।
ওয়ার্ক স্পেসের ব্যবহার-
ওয়ার্কস্পেস বলতে বোঝায় ডেক্সটপ এর বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এর গ্রুপ করা। প্রকৃতপক্ষে এই কার্যকরী ও কাল্পনিক ডেক্সটপ কাজের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করে । ডেক্সটপ এর মধ্যে বিশৃংখল অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে সঠিক ও উন্নতভাবে পরিচালনা করার জন্য ওয়ার্কস্পেস খুবই উপযোগী । উবুন্তু অপারেটিং সিস্টেমের 12.04 ভার্সনে সাধারণত চার ধরনের ওয়ার্কস্পেস দেখা যায়।
- প্রথম ওয়ার্কস্পেস এর দ্বারা সমস্ত ধরনের অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয় । 2.দ্বিতীয় ওয়ার্কস্পেস এর মাধ্যমে অফিস প্যাকেজের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন চালু হয় । 3.তৃতীয় ওয়ার্ক স্পেসটির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ওয়েব ব্রাউজার চালু হয় । 4.চতুর্থ ওয়ার্কস্পেসটির মাধ্যমে অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন চালু হয়।
উবুন্তু অপারেটিং সিস্টেম 12.04-এ একটি ওয়ার্ক স্পেস থেকে অন্য ওয়ার্ক স্পেস এ যাওয়ার পদ্ধতি -1. লঞ্চারে অবস্থিত ওয়ার্ক স্পেস এ ক্লিক করলে চারটি বাক্স যুক্ত একটি উইন্ডো দেখা যাবে।2. এই চারটি বক্স হলো চারটি ওয়ার্কস্পেস। এর মধ্যে থেকে যে-কোন একটি ওয়ার্কস্পেস বেছে নিলে সেই ওয়াক্সস্পেসে চালু অ্যাপ্লিকেশনটি দেখা যাবে।
উবুন্তু অপারেটিং সিস্টেমে বিভিন্ন সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন এর উইন্ডো পরিচালনা করা
যে-কোনো ফাইল নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার এ চালু করলে স্ক্রিনে সেই সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন এর উইন্ডো দেখা যায়। এই উইন্ডো র ওপর বিভিন্ন কাজ গুলি হল-
- টাইটেল বার – অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারটির উইন্ডোর একেবারে উপরে থাকে টাইটেল বার ।এই টাইটেলবারে অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারটির নাম এবং 3 টি কন্ট্রোল বাটন দেখা যায়। কন্ট্রোল বাটন তিনটি হলো-
(a) . মিনিমাইজ : যে-কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার এর উইন্ডো কে ছোট করে ডেক্সটপে লঞ্চারে রাখার জন্য এই বাটনটি ব্যবহৃত হয়। লঞ্চের থাকা অবস্থায় অ্যাপ্লিকেশনের বাম দিকে একটি ত্রিভুজাকৃতি চিহ্ন দেখা যায় ,যার মাধ্যমে বোঝা যায় অ্যাপ্লিকেশনটি মিনিমাইজ অবস্থায় আছে।
(b) . ম্যাক্সিমাইজ : এই বাটনে ক্লিক করলে অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারটি ডেক্সটপ এর সম্পূর্ণ স্ক্রিন জুড়ে অবস্থান করে। পুনরায় এই বাটনটি ক্লিক করলে উইন্ডোটি প্রকৃত আকারে ফিরে আসে।
(C). ক্লোজ বাটন : এই বাটনে ক্লিক করে অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার টি বন্ধ করা যায়। - অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডো সরানো – অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডোর টাইটেলবারে মাউস পয়েন্টার স্থাপন করে মাউসের লেফট বাটন চেপে রেখে ড্র্যাগ করলে উইন্ডোটি নির্দিষ্ট অবস্থানের সরে আসে। এরপর লেফট বাটন টি ছেড়ে দিতে হয় ।
- সুবিধামতো অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডোজ আকৃতি পরিবর্তন – অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডোর যে-কোন বাহুতে মাউস পয়েন্টার নিলে মাউস পয়েন্টার দুদিকে মুখ যুক্ত তীরচিহ্ন এ পরিণত হয়। আবার উইন্ডোর কৌণিক বিন্দুতে মাউস পয়েন্টার নিলে তা দুটি বাহু যুক্ত পরিণত হয়। এই তীর চিহ্ন গুলি ব্যবহার করে সুবিধামতো অ্যাপ্লিকেশনের উইন্ডোর আকৃতি পরিবর্তন করা হয় ।
- একাধিক সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করা – একাধিক অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালু থাকলে স্ক্রিনে প্রদর্শিত যেকোনো একটি অ্যাপ্লিকেশনের উইন্ডোর যেকোনো স্থানে ক্লিক করলে সেই অ্যাপ্লিকেশনটি উপরে চলে আসবে এবং প্রয়োজনীয় কাজ করা যাবে।