আধুনিক কম্পিউটারের গঠন:
বিজ্ঞানের জন ভন নিউম্যানের প্রবর্তিত ধারণা অনুসারে একটি আধুনিক কম্পিউটারের আদর্শ ব্লক চিত্র হল—-
অর্থাৎ ডিজিটাল কম্পিউটার নিম্নোক্ত উপাদান দ্বারা তৈরি হয়-(i) প্রসেসিং অংশ বাCPU,(ii) ইনপুট অংশ, (iii) সংরক্ষণ অংশ, (iv) আউটপুট অংশ, (v) মাদার বোর্ড, (vi) অন্যান্য অংশ ইত্যাদি।
কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ বা উপাদানগুলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
প্রসেসিং অংশ: কম্পিউটার সিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সি পি ইউ। একে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়। CPU কম্পিউটার সিস্টেমের স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে CPU-কে মাইক্রোপ্রসেসর একটি অভিহিত করা হয়।
উদাহরণ: Pentium iv, Core-2-Duo,i7,i9 ইত্যাদি।
CPU এর কাজ: 1.কম্পিউটার সিস্টেমের সমস্ত অংশগুলি নিয়ন্ত্রণ করা।2. ইনপুট ইউনিট থেকে আগত তথ্যগুলিকে প্রক্রিয়াকরন করে আউটপুট ইউনিটে প্রদান করা।3. তথ্য সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণ যন্ত্রাংশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
একটি CPU দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-1.কন্ট্রোল ইউনিট, 2.অ্যারিথমেটিক এন্ড লজিক ইউনিট বা এ এল ইউ।
- কন্ট্রোল ইউনিট: কন্ট্রোল ইউনিট এর মাধ্যমে কম্পিউটার সিস্টেমের সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রিত হয়। এখান থেকে নির্গত সিগন্যাল কম্পিউটারের সমস্ত অংশগুলিকে নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা নেয়।
- অ্যারিথমেটিক এন্ড লজিক ইউনিট এ এল ইউ: CPU- এর এই অংশে সকল প্রকার গাণিতিক এবং যৌক্তিক কাজ সম্পন্ন হয়। ALU-এর প্রধান কাজ গুলি হল-1.যোগ বিয়োগ গুন ভাগ সহ সমস্ত ধরনের কাজ সম্পাদন করা। 2. সমস্ত ধরনের যৌতিক কাজ সম্পন্ন করা। 3. গণন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ফলাফল কন্ট্রোল ইউনিট এর নিকট প্রেরণ করা। 4. ALU অ্যাকিউমুলেটর এর মাধ্যমে সমস্ত গাণিতিক কাজ সম্পন্ন করে।
ইনপুট অংশ: কম্পিউটার সিস্টেমের যে যন্ত্রাংশের সাহায্যে বাইরে থেকে কোনো তথ্য বা নির্দেশ প্রসেসিং অংশের কাছে পাঠানো যায়, তাকে ইনপুট অংশ ইনপুট ডিভাইস বলে।
উদাহরণ: কি-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, টাচস্ক্রীন, ও এম আর ইত্যাদি।
ইনপুট অংশের কাজ: 1. এই অংশের প্রধান কাজ হল বাইরে থেকে ব্যবহারকারীর নির্দেশ বা তথ্য ভেতরে বা প্রসেসিং অংশে প্রেরণ করা। 2. বাইরের নির্দেশ বা তথ্যকে কম্পিউটার সিস্টেমে বোধগম্য কোডে পরিবর্তন করা।
আউটপুট অংশ: যে যন্ত্র বা ডিভাইসের সাহায্যে প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের পর প্রাপ্ত ফলাফল কম্পিউটার সিস্টেমের বাইরে প্রকাশ করা, যায় তাকে আউটপুট ইউনিট বলে।
কম্পিউটারের বিভিন্ন ইনপুট যন্ত্রাংশ:
- কী-বোর্ড: কম্পিউটার সিস্টেমের অন্যতম প্রধান ইনপুট হল কী-বোর্ড। কি-বোর্ড এর মাধ্যমে সমস্ত ক্যারেক্টার বা সিম্বল প্রকাশ করা যায়। তাই কী-বোর্ডকে ক্যারেক্টর ইউজার ইন্টারফেস বলা হয়। সাধারণভাবে উইন্ডো কী-বোর্ড 105-টি কি থাকে। তবে বর্তমানে মাল্টিমিডিয়া যুক্ত কী-বোর্ডে 112-টি কী থাকে। কি-বোর্ড যে বিভিন্ন ধরনের কি থাকে, সেগুলি হল-
১.ফাংশনাল কী: কী-বোর্ড F1 থেকে F12 পর্যন্ত বারোটি ফাংশানাল কি থাকে। এই কী-গুলি কম্পিউটার সিস্টেমের নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২.আলফানিউমেরিক কী: কী-বোর্ড A-Z পর্যন্ত মোট 26 টি ইংরেজি অক্ষর এবং 0-9 পর্যন্ত মোট10 টি সংখ্যা থাকে। এগুলিকে আলফানিউমেরিক কী বলে।
৩. কারসার মুভমেন্ট কী: কি-বোর্ড রাইট অ্যারো, লেফট অ্যারো, আপ অ্যারো ও ডাউন অ্যারো এই চার ধরনের কারসার মুভমেন্ট কী থাকে।
৪. স্পেশাল কী: Enter, Backspace, Space, Shift, Delete, Crtl, Alt, Esc, Tab ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের স্পেশাল কী থাকে। - মাউস: কম্পিউটার সিস্টেমেরকম্পিউটার সিস্টেমের মাউস এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাউস দ্বারা কম্পিউটার সিস্টেমের সমস্ত কাজগুলি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা হয়। সাধারণ মাউস দেখতে ডিম্বাকার, অনেকটাই ইঁদুরের কাজ। বিভিন্ন ধরনের মাউস দেখতে পাওয়া যায়-1. মেকানিক্যাল মাউস,2. অপটিক্যাল মাউস, কার্ডলেস বা রিমোট মাউস।
- জয়স্টিক: কম্পিউটার সিস্টেমের একটি বিশেষ ইনপুট ডিভাইস হল জয়স্টিক। একটি ক্ষুদ্র দন্ডের মত দেখতে জয়স্টিক নির্দিষ্ট তলের উপর রেখে বিভিন্ন দিকে ঘোরানো হয় যাতে স্কিনের বিভিন্ন বস্তুর অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জয়স্টিকে একাধিক বোতাম থাকে।
- স্ক্যানার: কম্পিউটার সিস্টেমের একটি অন্যতম ইনপুট ডিভাইসের হল স্ক্যানার। এই যন্ত্রের সাহায্যে যে ছবি বা লেখাটি স্ক্যান করতে হবে তাকে স্ক্যানার এর কচের প্লেটের উপর রাখা হয়। এবার ওই ছবি বা লেখার উপর আলোকরশ্মি নিক্ষেপ করে তার প্রতিফলিত আলোকরশ্মি দ্বারা ইমেজ তৈরি হয়।
- লাইট পেন: লাইটপেন কম্পিউটার সিস্টেমে একটি খুব উপযোগী ইনপুট ডিভাইস। এই বৈদ্যুতিন কলমটি এক প্রান্তে আলোক সংবেদী কোষ থাকে এবং অন্য প্রান্ত তার-এর দ্বারা কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আলোক সংবেদী প্রান্তটি যখন কম্পিউটারের মনিটরের কোন আইকন স্পর্শ করে কখনোই আইকন নির্বাচিত হয়। একইভাবে কম্পিউটারের স্কিনের উপর স্কেচ অঙ্কন করা হয়।
- ও সি আর: ও সি আর বা OCR এমন একটি ইনপুট ডিভাইস যার সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের অক্ষর, সংখ্যা, যতি চিহ্ন ইত্যাদি চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়। এই যন্ত্রের সাহায্যে হাতের লেখা, টাইপ রাইটারের লেখা বা প্রিন্টারের মাধ্যমে ছাপানো বিভিন্ন টেক্সটের স্ক্যান করা ইমেজের বা ছবির অক্ষর বা ক্যারেক্টারগুলি শনাক্ত করা হয়। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, প্যাটান রিকগনিশন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
- এম আই সি আর: এম আর সি আর বা MICR হল এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে ব্যাংকের ড্রাফট বা চেক খুবই দ্রুততার সঙ্গে প্রসেস করা যায়। ম্যাগনেটিক কালিতে লেখা তথ্যের উপর যে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয় তা এই যন্ত্র দ্বারা সহজে শনাক্ত করা যায়।
- বারকোড রিডার: বর্তমানে বিভিন্ন পণ্যের বা দ্রব্যের ওপরে কালো রঙের সাড়ি সাড়ি সমান্তরাল দাগ দেখা যায়। এদের বারকোড বলে। এই বারকোডের মাধ্যমে দ্রব্য বা পণ্যটির নাম, দাম, উপাদানের তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ ইত্যাদি লেখা থাকে। যে যন্ত্রের সাহায্যে এই ধরনের কোড গুলি পড়ে তার তথ্যগুলি দেখতে পাওয়া যায় তাকে বারকোড রিডার বলে। বড়ো বড়ো শপিং মল, পোস্ট অফিস ইত্যাদি স্থানে বিল তৈরীর জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
- টাচস্ক্রিন: টাচস্ক্রিন এমন একটি আলোক সংবেদী ইনপুট যন্ত্র যার সাহায্যে ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট মেনুর ওপর স্পশের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশ বা কাজ প্রদান করতে পারে। এই ধরনের যন্ত্রে সমস্ত গ্রাফিক্যাল মিশ্রিত বিভিন্ন মেনু স্কিনে প্রদর্শিত হয়। ATM, মোবাইল ইত্যাদি ক্ষেত্রে টাচস্ক্রিনের ব্যবহার দেখা যায়।
- মাইক্রোফোন: এই ইনপুট যন্ত্রের সাহায্যে ব্যবহারকারী যে কোন কন্ঠস্বর কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করাতে পারে। স্পিচ রিকগনিশনের মাধ্যমে কোন কণ্ঠস্বরকে চ্যাটিং এর সময় টেক্সট বা লেখাতে পরিবর্তন করা যায়।