কম্পিউটারের প্রজন্ম
তারপর বিভিন্ন বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের আধুনিক কম্পিউটার আমাদের একটি নির্দিষ্ট রূপ নিয়েছে|
কম্পিউটার তৈরীর শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সৃষ্টিকাল নিম্মোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়,
প্রথম প্রজন্ম
বৈশিষ্ট্য:1.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের প্রধান ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ হল ভ্যাকিউম টিউব.এই সমস্ত পাঞ্চকার্ড ব্যবহৃত হয় lআউটপুট এর জন্য পাঞ্চকার্ড ও কাগজ ব্যবহৃত হয়l এই সময় কার কম্পিউটার গুলি আকৃতিতে বৃহৎ ছিল সাধারণত এইগুলি রাখার জন্য একটি বড় ঘর লাগতোl প্রাথমিক সংরক্ষণ যন্ত্র হিসেবে ম্যাগনেটিক ড্রাম ব্যবহৃত হতো এবং স্থায়ী সংরক্ষণ যন্ত্র হিসেবে পাঞ্চকার্ড ব্যবহৃত হতোl ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহৃত হবার জন্য যন্ত্রটি খুব তাপ উৎপন্ন করতে এবং এর ফলে শীত তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের প্রয়োজন হতোl কম্পিউটার চালু রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে শক্তি প্রয়োজন ছিলl উদাহরণ:ENIAC, EDSAC, EDVAC, UNIVAC-I ইত্যাদিl
ব্যবহৃত সফটওয়্যার :এই সময়কার কম্পিউটার মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামিং এবং পরের দিনে অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামিং ব্যবহৃত করা হতোl
সুবিধা :এই প্রজন্মের কম্পিউটারের গঠন তুলনামূলকভাবে অনেক সরল প্রকৃতিরl সমসাময়িক যন্ত্রগুলি থেকে তুলনায় দ্রুত গতিতে কাজ করতে সক্ষম ছিল l
অসুবিধা :এই প্রজন্মের কম্পিউটারের আয়তন এবং প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তি প্রয়োজন হতোl প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন হওয়ার জন্য এই সময়ের কম্পিউটারকে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে রাখা হতো এই সময়ের কম্পিউটারের ফলাফল সঠিক বিশ্বাসযোগ্যতা কম ছিলl দ্বিতীয় প্রজন্ম
বৈশিষ্ট্য :এই প্রজন্মের কম্পিউটারের প্রধান ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ ছিল ট্রানজিস্টরl ইনপুট ইউনিট হিসাব এবং ম্যাগনেটিক টেপ ব্যবহৃত হতোl আউটপুট এর জন্য পাঞ্চকার্ড এবং ম্যাগনেটিক টেপ ব্যবহৃত হতোl আউটপুট এর জন্য পাঞ্চকার্ড ও কাগজ ব্যবহৃত হতো তথ্য সংরক্ষণের জন্য ম্যাগনেটিক টেপ ব্যবহৃত হতোl এই সময় ব্যবহৃত ট্রানজিস্টার পূর্বজন্মের ভ্যাকুয়াম টিউব থেকে আকারে অনেক ছোট ,কম তাপ উৎপাদনকারী এবং গতিশীলl
উদাহরণ:PDP-1, IBM-7000, Honeywell-2000 ব্যবহৃত সফটওয়্যার :এই প্রজন্মের কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হতোl এইসময় কম্পিউটারে বিভিন্ন হাই লেভেল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, যেমন-FORTRAN, COBOL, BASICপ্রভৃতির ব্যবহার শুরু হয়l
সুবিধা: এই প্রজন্মের কম্পিউটারের প্রজন্মের তুলনায় ছোট ছিলl প্রথম প্রজন্মের তুলনায় কম উৎপাদন হতো এবং বিদ্যুৎ খরচ হতোl বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছিলl
অসুবিধা :এই প্রজন্মের কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হতোl জটিল প্রকৃতির এবং আকারে ছোট হলেও বহন যোগ্য ছিল নাl
তৃতীয় প্রজন্ম
বৈশিষ্ট্য:1.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের প্রধান ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ হিসাবে ইন্ট্রিগেটেড সার্কিট আইসি এর ব্যবহার শুরু হয়l2.নির্দেশ বা তথ্য ইনপুট এর জন্য কীবোর্ড এর ব্যবহার শুরু হয়l3.ফলাফল প্রদর্শন অর্থাৎ আউটপুট এর জন্য মনিটরের ব্যবহার শুরু হয় l4.তথ্য সংরক্ষণের জন্য ম্যাগনেটিকdisk ব্যবহৃত হয় l5. পূর্বের প্রজন্ম থেকে এই সময়কার কম্পিউটার গুলি আকারে ছোট গতিশীল এবং কম্পিউটার গুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ কম ছিলোl6.এই সময়ের কম্পিউটার সময় বিভাজন পদ্ধতির মাধ্যমে একাধিক একত্রে বা একই সময়ে করা সক্ষম ছিলl
উদাহরণ :IBM360,PDP-8,CDC-6600 ইত্যাদিl
ব্যবহৃত সফটওয়্যার: এই সময়ের কম্পিউটারের টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম এবং প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবেRPG, C, Fortan, pascal ইত্যাদি ব্যবহৃত হতো সুবিধা:1.পূর্বের তুলনায় আকারে ছোট হওয়ায় বহনযোগ্য ছিলl 2.এই সময়কার কম্পিউটারে কম তাপ উৎপন্ন হতো এবং বিদ্যুৎ খরচ কম হতোl3.এই প্রজন্মের কম্পিউটার অনেক বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল প্রদর্শন করত 4.পূর্বের তুলনায় অনেক কম ছিলোl
অসুবিধা :1.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের গঠন তুলনামূলকভাবে অনেক জটিলl2.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের প্রয়োজন হতোl3.পূর্বের তুলনায় দাম কমলেও সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যেই ছিল নাl
চতুর্থ প্রজন্ম:
বৈশিষ্ট্য:1.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের প্রধান ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ LSI এবংVLSI যুক্ত আইসি ব্যবহৃত করা হতোl2.ইনপুট হিসেবে কিবোর্ড এবং মাউস ব্যবহার করা হতোl3.ফলাফল প্রদর্শনের জন্য আউটপুট ইউনিট হিসাবে মনিটর, প্রিন্টার ,সাউন্ড বক্স ইত্যাদি ব্যবহৃত হতোl4.তথ্য সংরক্ষণের জন্য ম্যাগনেটিক ও পরবর্তী সময়ে অপটিক্যাল স্টোরেজ এর ব্যবহার শুরু হয়l5.এই প্রজন্মের কম্পিউটার আকারে ছোট হওয়ায় খুব সহজে বহনযোগ্য ছিল এই সময়ের কম্পিউটার প্রদত্ত ফলাফল অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য ছিলl
উদাহরণ :CRAY-1,CRAY-2,TRS-80 ইত্যাদিl
ব্যবহৃত সফটওয়্যার:1.এইসময় কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হতোl2.এই সময় প্রোগ্রামিং ভাষা হিসাবেC, C++,4GLব্যবহৃত হতো l
সুবিধা :1.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম ছিলl2.এই সময় এল এস আই বা বি এন এস আই যুক্ত আইসি ব্যবহৃত হওয়ায় কম্পিউটারের আকার অনেক ছোট ছিলl3.পূর্বের প্রজন্মের কম্পিউটার গুলি তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়া যেতl
অসুবিধা:1.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের গঠন তুলনামূলকভাবে অনেক জটিলl2.এল এস আই ও ভিএল এস আই চিপ এর ব্যবহারের জন্য উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন ছিল l3. উন্নত মানের সফটওয়্যার প্রয়োজন ছিলl
পঞ্চম প্রজন্ম
বৈশিষ্ট্য:1.এই প্রজন্মের কম্পিউটারের প্রধান ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ হিসাবে ইউ এল এস আই, আইসি ব্যবহৃত হতো l2. নির্দেশ বা তথ্য ইনপুট এর জন্য কীবোর্ড, মাউস, জয়স্টিক, টাচস্ক্রিন ব্যবহৃত হয়l3.ফলাফল প্রদর্শন বা আউটপুট এর জন্য এলসিডি, এলইডি বিভিন্ন ধরনের মনিটর, উন্নত ধরনের প্রিন্টার, সাউন্ডবক্স, প্রজেক্টর ব্যবহৃত হয় l4. তথ্য সংরক্ষণের জন্য অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন ম্যাগনেটিক ও অপটিকস ব্যবহৃত হয়l5.তুলনামূলকভাবে এই প্রজন্মের কম্পিউটার গুলিতে কম পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি ব্যয় হয়l6. এই সময় কার কম্পিউটারেArtificial Inteeigence বা AI যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
উদাহরণ :IBM SP/2, SGL Origin 2000,PARAM10000 ইত্যাদি।
ব্যবহৃত সফটওয়্যার :1.এই সময়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে চতুর্থ পর্যায়ের ভাষা object-oriented প্রোগ্রামিং ব্যবহৃত হয়l2.এই সময় ইন্টারনেট ,ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব, মাল্টিমিডিয়া প্রভৃতির জন্য উন্নত মানের সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়l সুবিধা :1.এই প্রজন্মের কম্পিউটার তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং একাধিক কাজ একসঙ্গে সম্পাদন করতে সক্ষমl2.এই সময়ের কম্পিউটারগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধি এর মাধ্যমে উন্নততর চিন্তা শক্তির বিকাশ ঘটানো হচ্ছেl3.প্যারালাল প্রসেসিং এর মাধ্যমে সমান্তরালভাবে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম ছিলl4.রক্ষণাবেক্ষণের ও শীত তাপ নিয়ন্ত্রণ এর প্রয়োজন নেইl
অসুবিধা :এই প্রজন্মের কম্পিউটার গুলির গঠন অনেক সূক্ষ্ম ও জটিল l
অ্যানালগ কম্পিউটার: যে সকল কম্পিউটার ক্রমাগত পরিবর্তনশীল পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় তাকে এনালগ কম্পিউটার বলে এই ধরনের কম্পিউটার ডেটার বা তথ্যের সঠিক সফলতা পাওয়া যায়না। উদাহরণ: স্লাইড রুল ,সেটপড রেইনার ইত্যাদি।
ব্যবহার:1.বৈদ্যুতিক তারের ভোল্টেজ এর ওঠানামা পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়l2.চিকিৎসা ক্ষেত্রে ই.সি.জি যন্ত্রে এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়l3.তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের চাপের তারতম্য নির্ণয় করার জন্য এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়l4.রাসায়নিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত গবেষণার কাজে এনালগ কম্পিউটার প্রভৃতি ব্যবহার লক্ষ্যনীয়l
বৈশিষ্ট্য:1.ক্রমাগত পরিবর্তনশীল কোন বস্তু বা পদার্থের ভৌত অবস্থায় পরিমাপ করা হয় এই ধরনের কম্পিউটারের সংরক্ষণ করার ক্ষমতা কম হয়l3.তাপমাত্রা রোধ, তড়িৎ প্রবাহ ইত্যাদির ডেটাকে এই ধরনের কম্পিউটারে অবিচ্ছিন্ন তথ্য হিসেবে তুলে ধরা যায়। 4.জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান নির্ণয় করতে সক্ষম।
ডিজিটাল কম্পিউটার: যে সকল কম্পিউটার ডিজিটাল সংকেত দ্বারা পরিচালিত হয়, তাকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলে lডিজিটাল কম্পিউটারের তথ্য হিসাবে ‘1’ অর্থাৎ ON এবং’ O’ অর্থাৎ OFF ব্যবহৃত হয় l
উদাহরণ বর্তমানে ব্যবহৃত ডেক্সটপ, ল্যাপটপ ডিজিটাল কম্পিউটারের উদাহরণl
ব্যবহার:
1.সমস্ত ধরনের অফিস ওয়ার্কের জন্য ব্যবহৃত হয়l 2.ডেটা প্রসেসিং এর কাজে ব্যবহৃত হয়l3.বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সঠিক ফলাফল নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বৈশিষ্ট্য :1.এই সিস্টেমে সমস্ত তথ্য ওয়ান বা ও দ্বারা প্রকাশিত হয় l2. এই কম্পিউটারের সূক্ষ্ম ও সঠিক ফলাফল নির্ণয় সম্ভবl3.এই সিস্টেম ধারাবাহিক হীন তথ্য নিয়ে কাজ করেl4.এই ধরনের কম্পিউটার মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহৃত হয়l
হাইব্রিড কম্পিউটার: যে সমস্ত কম্পিউটারে এনালগ ও ডিজিটাল উভয় ধরনের গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্য বর্তমান থাকে, তাকে হার্টবিট কম্পিউটার বলেl
উদাহরণ:X PC-100,রোবট, HYDAC-2400,Hycomp-258 ইত্যাদিl
ব্যবহার :আবহাওয়ার পূর্বাভাস, হৃদ স্পন্দন, রক্তচাপ ইত্যাদি নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়l
বৈশিষ্ট্য :1.এই ধরনের কম্পিউটারের দুই ধরনের তথ্য বা সংকেত এক ধরনের থেকে অন্য ধরনের পরিবর্তন সম্ভব l2. এই ধরনের কম্পিউটার খুবই দ্রুত এবং সঠিক ফলাফল নির্দেশ করতে পারেl অ্যানালগ এবং ডিজিটাল উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্য এতে বিদ্যমানl
সুপার কম্পিউটার: সুপারকম্পিউটার সবচেয়ে বৃহৎ, শক্তিশালী, দামি এবং উচ্চগতি সম্পন্নl এই ধরনের কম্পিউটারের তথ্য ধারণ ক্ষমতা বেশিl
উদাহরণ : Cray-3, Cyber-205,CDC-7600,PARAM ইত্যাদি l
ব্যবহার: 1.বৈজ্ঞানিক কাজকর্মের সুপার কম্পিউটার অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেl2.আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে।3তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করতেl4.বলবিদ্যা তে l5.অস্ত্র তৈরির গবেষণা, বায়ো মেডিসিন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় l
বৈশিষ্ট্য :1.সুপার কম্পিউটার দ্রুত তথ্য প্রসেসিং করতে সক্ষমl2.64bit বা ততোধিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ ব্যবহৃত হয়l3.সুপার কম্পিউটারের স্পিড হল এম আই পি এসl4. এই কম্পিউটার সিস্টেমে প্রায়ই দুশো ব্যবহারকারী একসঙ্গে টার্মিনাল ব্যবহার করতে সক্ষমl মেইনফ্রেম কম্পিউটার :মেইনফ্রেম কম্পিউটার মেইনফ্রেম কম্পিউটার সিস্টেমে তথ্য ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি, তবে সুপার কম্পিউটার থেকে কম lএই ধরনের কম্পিউটার বিশাল আকারের তথ্যের ওপর দ্রুতগতিতে বিভিন্ন জটিল, বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারেl মেইনফ্রেম কম্পিউটার সিস্টেমেও সুপার কম্পিউটারের মত মাল্টি ইউজার সিস্টেমের অর্থাৎ একসঙ্গে একাধিক ব্যবহারকারী কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেl
উদাহরণ:IBM-4381, CDC-6600,VAX-8000 ইত্যাদিl ব্যবহার:1.এখানে প্রচুর পরিমাণ তথ্য প্রসেসিং হয় l2. শিল্প এবং কলকারখানার বিভিন্ন পরিসংখ্যান , রিসোর্স প্ল্যানিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয় l
বৈশিষ্ট্য:1.বিশাল আয়তনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে সক্ষম l2. এই কম্পিউটারে32-128 bit মাইক্রো- প্রসেসর ব্যবহৃত হয় l3. টাইম শেয়ারিং বা সময় বিভাজন পদ্ধতিতে এখানে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ হয়l
মিনি কম্পিউটার: মিনি কম্পিউটার মেইনফ্রেম বা সাধারণ কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার থেকে আকারে ছোট এবং তুলনামূলকভাবে সস্তাl এটিও multi-user কম্পিউটার lমিনি কম্পিউটার এর ক্ষমতা মাঝারি ধরনের lসাধারণত বিশেষ কাজের মেয়ের কম্পিউটার হিসাবে তৈরী করা হয়েছেl
উদাহরণ:PDP-8, IBM, VAX 7500.
ব্যবহার :1.ব্যাবসায়িক এবং কারিগরি বিদ্যায় বেশি ব্যবহৃত হয়l2.একাউন্টিং, ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, সি এ ডি ইত্যাদি কাজে মিনি কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়l
বৈশিষ্ট্য:1.মিনি কম্পিউটার সিপিইউ ,মেমোরি এবং সাহায্যকারী সঞ্চয় অংশটি একটি শাড়ি বা ত্বকের ওপর সজ্জিত থাকেl2.এটি multi-user কম্পিউটারl3.সাধারণত 32bit পর্যন্ত মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহৃত হয় l4. প্রসেসিং গতি 500 KIPS l
পার্সোনাল কম্পিউটার: কম্পিউটারের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কম্পিউটার হল পার্সোনাল কম্পিউটারl বর্তমানে পেন্টিয়াম V সিরিজের পার্সোনাল কম্পিউটার বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে l এছাড়াওDual core, core-2-DUe,core-i3,core-i7,core i9 ইত্যাদি প্রসেসরযুক্ত পার্সোনাল কম্পিউটার এখন জনপ্রিয়তা পেয়েছে l
উদাহরণ:PC-XT, PC-AT ইত্যাদিl
ব্যবহার:1.মানুষের দৈনন্দিন কাজের জন্য, যেমন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ফাইল তৈরি, গান বা ভিডিও দেখা ,ইন্টারনেট সার্ফিং ,গেম খেলা ইত্যাদি কাজে এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়l2.এছাড়াও বিভিন্ন অফিসের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য পার্সোনাল কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়l
বৈশিষ্ট্য:1.পার্সোনাল কম্পিউটারে আকারে ছোট হয় এটিকে টেবিলের উপর রেখে কাজ করা যায়l এই কারণে এই ধরনের কম্পিউটার কে অনেক সময় ডেক্সটপ বলে l2. পার্সোনাল কম্পিউটারে সিআরটি বা এলসিডি বর্তমানে এলইডি মনিটর ব্যবহৃত হয়l3.এই ধরনের কম্পিউটারে ইনপুট হিসাবে কিবোর্ড ও মাউস, আউটপুট হিসেবে মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার এবং তথ্য সংরক্ষণের জন্য হার্ডডিক্স, সিডি, ডিভিডি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়l
পোর্টেবল কম্পিউটার: পার্সোনাল কম্পিউটারের আকারে পরিবর্তন করে বহনযোগ্য যে কম্পিউটারের রূপ দেওয়া হয়েছে, তাকেই পোর্টেবল কম্পিউটার বলেl পোর্টেবল কম্পিউটার গুলি সাধারণত উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন হয় lএই কম্পিউটার গুলি খুব সহজেই স্থানান্তর সম্ভব হলে বর্তমানে এই ধরনের কম্পিউটার এর চাহিদা খুব বেশিl বিভিন্ন ধরনের পোর্টেবল কম্পিউটার হল- 1.ল্যাপটপ ,2.পাম্প টপ, 3.নোটবুক, 4.পেন ব্যাসল্ট কম্পিউটার l
ল্যাপটপ: ল্যাপটপ হল পোর্টেবল কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়l এই যন্ত্রটিব্যাটারির মাধ্যমে চালিত হয় হওয়াই সহজেই অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভবl আকৃতিতে ছোট হওয়ায় এই কম্পিউটারের ওপর নিয়ে কাজ করা যায়l
উদাহরণ:Toshiba C640,Dell Inspiron ইত্যাদিl ব্যবহার :সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় ব্যবহারকারী বাড়ি বা অফিস ছাড়াও বাইরে অন্য কোথাও এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে lএছাড়া পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য ল্যাপটপ ব্যবহার করা হয়l
বৈশিষ্ট্য:1.ল্যাপটপের আকার ছোট, সহজে বহনযোগ্য ব্যাটারি চালিত হয়l2.এক কাঠামোর মধ্যেই কিবোর্ড, মাউস ,মনিটর, স্পিকার, প্রসেসর, ডিভিডি /সিডি ড্রাইভ অবস্থান করে l3. ল্যাপটপে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর এবং উন্নত ধরনের প্রযুক্তি গ্রাফিক্স ব্যবহৃত হয়l
(2)পামটপ কম্পিউটার :নোটবুক কম্পিউটার অনেক ছোট করে হাতের তালুতে কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা কম্পিউটারটিকে পামটপ বলেl অনেক সময় পামটপ কম্পিউটার পকেট ক্যালকুলেটরের আকারে হওয়ায় পকেট এ করে যাতায়াত করা যায়l সাধারণত পামটপ এ ওয়ার্ড প্রসেসর, ক্যালেন্ডার, ফোন বুক, ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট ,ইন্টারনেট ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে এছাড়াও প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য বিভিন্ন সফটওয়্যার প্যাকেজ ইন্সটল করা হয় l2000 খ্রিস্টাব্দে ট্যাবলেট উদ্ভাবনের পর পামটপ কম্পিউটার এর বাণিজ্যিক উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছেl
উদাহরণ : HP OmniGo100, Atari Portifolio ইত্যাদি l
(3)নোটবুক কম্পিউটার: ল্যাপটপের থেকেও আকৃতিতে ছোট, ওজনে অনেক কম এবং ছোট বইয়ের মত কম্পিউটারকে নোটবুক কম্পিউটার বলেl এই ধরনের কম্পিউটারের মতোই উন্নতমানের মাইক্রোপ্রসেসর, উন্নত গ্রাফিকস ও যথেষ্ট সচেতন থাকেl ব্যাটারিচালিত হওয়ার জন্য যেকোনো স্থানে নোটবুক নিয়ে কাজ করা সম্ভবl নোটবুক কম্পিউটার অনেক সময় ট্যাবলেটPC বলা হয়l
উদাহরণ:HP G62-465 DX, Acerone 10 Atomইত্যাদিl